Header Ads Widget

বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ ও পরীক্ষা পদ্ধতি - মানবন্টন | Bar Council Marks Distribution

বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ ও পরীক্ষা পদ্ধতি - মানবন্টন | Bar Council Marks Distribution


অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি পরীক্ষার ধাপসমূহ

আপনার পাঠানো পিউপিলেজ রেজিস্ট্রেশন ফর্ম বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হওয়ার দিন থেকে ছয় মাস পূর্ণ হলে, বার কাউন্সিল আপনার জন্য একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু করবে, যেখানে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে।


সাধারণত বার কাউন্সিল নিজ ব্যস্ততার কারণে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ডাকযোগে পাঠায় না। প্রার্থীকে সরাসরি বার কাউন্সিল অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়ার পর, আপনি আসন্ন আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।


পরীক্ষার প্রক্রিয়া

ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর, অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরবর্তী তিন ধাপের পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে আপনাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে। এটি সেকেন্ড ইন্টিমেশন বা অ্যাপ্লিকেশন ফর এনরোলমেন্ট অ্যাজ অ্যান অ্যাডভোকেট নামে পরিচিত।

আবশ্যক ডকুমেন্টস

বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর, আপনাকে নিম্নলিখিত ডকুমেন্টসসহ আবেদনপত্র জমা দিতে হবে:

- নির্ধারিত ফি বাবদ টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার

- সিনিয়রের কাছ থেকে শিক্ষানবিশকাল সফলভাবে সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্র

- শিক্ষানবিশকালে প্রাপ্ত মামলার পূর্ণ বিবরণসহ পরীক্ষার্থী ও সিনিয়রের স্বাক্ষর, সিলমোহর ও তারিখযুক্ত পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার তালিকা

- শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ

- চারিত্রিক সনদ

- ছবিসহ অন্যান্য চাহিদাকৃত কাগজপত্র

সেকেন্ড ইন্টিমেশন জমা দেওয়ার পর, আপনার জন্য এডমিট কার্ড ইস্যু করা হবে।


অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরীক্ষা পদ্ধতি

এডমিট কার্ড পাওয়ার পর, প্রার্থীদের প্রথমে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নাম্বারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে, যার পাশ নাম্বার ৫০। এমসিকিউ পরীক্ষায় পাশ করলে, প্রার্থীকে ১০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষায় বসতে হবে, যার পাশ নাম্বারও ৫০।


লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলে, প্রার্থীকে ৫০ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করেন। 

মৌখিক পরীক্ষা

মৌখিক পরীক্ষায়, প্রার্থীর সিনিয়রের অধীনে যে বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা থেকেই প্রশ্ন করা হয়। সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলে, প্রার্থীকে অ্যাডভোকেট হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ প্রদান করা হয়।


প্রাথমিক বা এমসিকিউ পরীক্ষার বিষয় ও পূর্ণমান

মোট সাতটি বিষয়ের ওপর প্রাথমিক এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়:

- দেওয়ানী কার্যবিধি: ২০ নম্বর

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন: ১০ নম্বর

- ফৌজদারি কার্যবিধি: ২০ নম্বর

- দণ্ডবিধি: ২০ নম্বর

- সাক্ষ্য আইন: ১৫ নম্বর

- তামাদি আইন: ১০ নম্বর

- পেশাগত আচরণ, বার কাউন্সিল রুলস ও লিগ্যাল ডিসিশন: ৫ নম্বর

মোট ১০০ নাম্বারের এমসিকিউ পরীক্ষার সময়সীমা ১ ঘন্টা।


লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও পূর্ণমান

অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষায় ছয়টি গ্রুপে প্রশ্ন করা হবে:

- **"ক" গ্রুপ:** দেওয়ানী কার্যবিধি ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন থেকে তিনটি প্রশ্ন, যার মধ্যে দুইটির উত্তর দিতে হবে (প্রতি প্রশ্নের নাম্বার ১৫)।

- **"খ" বিভাগ:** ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে দুইটি প্রশ্ন, যার মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে (পূর্ণমান ১৫)।

- **"গ" বিভাগ:** দণ্ডবিধি থেকে দুইটি প্রশ্ন, যার মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে (পূর্ণমান ১৫)।

- **"ঘ" ও "ঙ" বিভাগ:** যথাক্রমে সাক্ষ্য আইন ও তামাদি আইন থেকে চারটি প্রশ্ন, যার মধ্যে দুইটির উত্তর দিতে হবে (পূর্ণমান ১৫)।

- **"চ" বিভাগ:** পেশাগত আচরণ, বার কাউন্সিল রুলস ও লিগ্যাল ডিসিশন থেকে দুইটি প্রশ্ন, যার মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে (পূর্ণমান ১০)।


মোট ১০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষার উত্তর প্রদান করতে হবে।

Post a Comment

0 Comments